ময়মনসিংহ ০৬:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভালুকায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ

দৈনিক মুক্তকণ্ঠ
  • আপলোড সময়: ১২:১৯:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫
  • / ৩০৮ বার পড়া হয়েছে

শাহিদুজ্জামান সবুজ, ভালুকা, ময়মনসিংহের:- ময়মনসিংহের ভালুকার একটি বিদ্যালয়ে আয়া পদে চাকুরী দেওয়ার কথা বলে সাড়ে চার লাখ টাকা ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে  প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ডাকাতিয়ার পাঁচগাও সানরাইজ উচ্চ বিদ্যালয়ের। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলী নূর খান বরাবর নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ দিলে নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগে সত্যতা পাওয়ার কারণে নিয়োগটি ওই সময় বন্ধ রাখা হয়। জানাযায়, স্থানীয় শুক্কুর আলী তার মেয়ে শাহিদা আক্তারকে আয়া পদে চাকরির জন্য প্রধান শিক্ষক শাহ আব্দুল মতিনের কথা মতে সাড়ে চার লাখ টাকা দেয়। কিন্তু চাকরি দিতে না পারায় তারা ঘটনাটি উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টাকা লেনদেনের একটি অডিও রেকর্ড শোনার পর ও তদন্তের করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে একটি প্রতিবেদন উর্ধতন কর্মকর্তার নিকট পেশ করেন। পরে টাকা লেনদেনের বিষয় জানাজানি হলে প্রধান শিক্ষক এক লাখ উনষাট হাজার টাকা ফেরত দিয়ে বাকী টাকার জন্য সময় নেন। কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পর ভুক্তভোগী বিষয়টি স্থানীয়দের অবগত করলে তারা শিক্ষককে বাকী টাকা ফেরত দিতে বলেন। এ ঘটনায় পর স্থানীয়রা টাকা চাওয়ায় উল্টো বিএনপি নেতা সেলিমসহ কয়েক ব্যাক্তির নামে থানায় চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন প্রধান শিক্ষক। ঘটনার পর এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষকের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে পদত্যাগের দাবী করেন। তাছাড়া অফিস সহায়ক, পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও আয়াসহ ৩টি পদে জনবল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ আব্দুল মতিন, স্কুল কমিটির সভাপতি আবু হানিফ, সদস্য বুলবুল ইসলাম ও ফেরদৌস কবির মিলে প্রার্থী গোলাম রব্বানীর(রুন্টি)’র কাছ থেকে  ৫ লক্ষ টাকা, পরিচ্ছন্নদা কর্মী পদে লতিফের কাছ থেকে ৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, আয়া পদে রিমার কাছ থেকে ৮ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়ে মোট ২০ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঘুষের অভিযোগও তুলেন তারা। অভিযোগের ঘটনায় ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানান জানান, নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত প্রতিবেদন ও অডিও রেকর্ডে টাকা লেনদেনের বিষয়টি স্পষ্ট। তবে আরও তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। ভালুকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, ওই ঘটনায় তদন্ত রিপোর্ট অনেক আগেই জেলায় পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাদের নিকট এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। সিদ্ধান্ত আসা মাত্রই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information

ভালুকায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ

আপলোড সময়: ১২:১৯:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫

শাহিদুজ্জামান সবুজ, ভালুকা, ময়মনসিংহের:- ময়মনসিংহের ভালুকার একটি বিদ্যালয়ে আয়া পদে চাকুরী দেওয়ার কথা বলে সাড়ে চার লাখ টাকা ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে  প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ডাকাতিয়ার পাঁচগাও সানরাইজ উচ্চ বিদ্যালয়ের। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলী নূর খান বরাবর নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ দিলে নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগে সত্যতা পাওয়ার কারণে নিয়োগটি ওই সময় বন্ধ রাখা হয়। জানাযায়, স্থানীয় শুক্কুর আলী তার মেয়ে শাহিদা আক্তারকে আয়া পদে চাকরির জন্য প্রধান শিক্ষক শাহ আব্দুল মতিনের কথা মতে সাড়ে চার লাখ টাকা দেয়। কিন্তু চাকরি দিতে না পারায় তারা ঘটনাটি উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টাকা লেনদেনের একটি অডিও রেকর্ড শোনার পর ও তদন্তের করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে একটি প্রতিবেদন উর্ধতন কর্মকর্তার নিকট পেশ করেন। পরে টাকা লেনদেনের বিষয় জানাজানি হলে প্রধান শিক্ষক এক লাখ উনষাট হাজার টাকা ফেরত দিয়ে বাকী টাকার জন্য সময় নেন। কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পর ভুক্তভোগী বিষয়টি স্থানীয়দের অবগত করলে তারা শিক্ষককে বাকী টাকা ফেরত দিতে বলেন। এ ঘটনায় পর স্থানীয়রা টাকা চাওয়ায় উল্টো বিএনপি নেতা সেলিমসহ কয়েক ব্যাক্তির নামে থানায় চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন প্রধান শিক্ষক। ঘটনার পর এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষকের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে পদত্যাগের দাবী করেন। তাছাড়া অফিস সহায়ক, পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও আয়াসহ ৩টি পদে জনবল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ আব্দুল মতিন, স্কুল কমিটির সভাপতি আবু হানিফ, সদস্য বুলবুল ইসলাম ও ফেরদৌস কবির মিলে প্রার্থী গোলাম রব্বানীর(রুন্টি)’র কাছ থেকে  ৫ লক্ষ টাকা, পরিচ্ছন্নদা কর্মী পদে লতিফের কাছ থেকে ৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, আয়া পদে রিমার কাছ থেকে ৮ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়ে মোট ২০ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঘুষের অভিযোগও তুলেন তারা। অভিযোগের ঘটনায় ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানান জানান, নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত প্রতিবেদন ও অডিও রেকর্ডে টাকা লেনদেনের বিষয়টি স্পষ্ট। তবে আরও তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। ভালুকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, ওই ঘটনায় তদন্ত রিপোর্ট অনেক আগেই জেলায় পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাদের নিকট এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। সিদ্ধান্ত আসা মাত্রই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।