শাকিল আহমেদ, মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় পৌরসভাসহ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে করোনা আক্রান্ত রোগী কিংবা স্বজনদের একটি মাত্র ফোন করলেই মিলছে বিনামূল্যে অক্সিজেন সিলিন্ডার সেবা। উপজেলার যেকোন প্রান্ত থেকে ফোন পেলেই অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে ছুটে যাচ্ছে অক্সিজেন ব্যাংক মঠবাড়িয়া টিম। কোভিড রোগীর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে অক্সিজেন। ফুরিয়ে গেলে আবার সিলিন্ডারে ভরে দিয়ে আসবেন। মিরাজুল ইসলাম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন নামের একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান এমন উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রথমে ভান্ডারিয়া উপজেলায় ফ্রী এ্যাম্বুলেন্স ও অক্সিজেন সিলিন্ডার সেবার পাশাপাশি এবার পিরোজপুরের সর্ব বৃহৎ উপজেলা মঠবাড়িয়ায়ও বিনামূল্যে এ দুর্যোগকালীন মুহূর্তে অক্সিজেন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। মিরাজুল ইসলাম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম জানান, মহামারী করোনা দুর্যোগকালীন সময়ে শুধুমাত্র ভান্ডারিয়া উপজেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আশপাশের সকল উপজেলায় এ সেবা পৌঁছে দেয়াই প্রতিষ্ঠানের একমাত্র লক্ষ্য। আর সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে আমরা অর্ধশতাধিক নতুন অক্সিজেন সিলিন্ডার ক্রয় করে বিনামূল্যে সেবা প্রদান করে যাচ্ছি। সাথে রয়েছে বিনামূল্যে এ্যাম্বুলেন্স সেবা। পার্শ্ববর্তী উপজেলা মঠবাড়িয়ায় বর্তমানে আমরা অক্সিজেন সিলিন্ডার সেবা চালু রেখেছি। ভবিষ্যতে সেখানে এ্যাম্বুলেন্স সেবাও যোগ করার ইচ্ছা আছে আমাদের। মিরাজুল ইসলাম আরও জানান, যতদিন পর্যন্ত করোনা মহামারী থাকবে ততদিন পর্যন্ত আমাদের এই সেবা কার্যক্রম চলবে। প্রতিষ্ঠানটি মঠবাড়িয়ায় বিনামূল্যে সেবা প্রদানের জন্য অক্সিজেন ব্যাংক মঠবাড়িয়া নামে একটি হেল্পলাইন নম্বর চালু রেখেছে। ওই নম্বরে ফোন করলেই পৌঁছে যাবে অক্সিজেন। নাম্বরটি হলো ০১৭১২-৫৯৬৫২৫। “অক্সিজেন ব্যাংক মঠবাড়িয়া” স্বেচ্ছাসেবক মূলক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা শাকিল বাবু বলেন, মিরাজুল ইসলাম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠাতা ভান্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলামের দিক-নির্দেশনায় বিনামূল্যে স্বেচ্ছায় আমরা এ সেবা পৌঁছে দিচ্ছি। ফোন পেলেই আমরা মোটরসাইকেলযোগে সিলিন্ডার নিয়ে করোনা আক্রান্তদের বাড়ি চলে যাচ্ছি। আলহামদুলিল্লাহ এ পর্যন্ত আমরা ৩ জন কোভিট-১৯ আক্রান্তদের কলে সাড়া দিয়ে তাদের কাছে অক্সিজেন সেবা পৌঁছে দিতে পেরেছি। মঠবাড়িয়ায় আমাদের কাছে আরও ১০ টি অক্সিজেন সিলিন্ডার সংগ্রহে রয়েছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত দিলীপ সিকদার নামের এক রোগীর মেয়ে শিক্ষার্থী দিপা সিকদার বলেন, আমার বাবা যখন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সংকটাপনś কোথাও অক্সিজেন সিলিন্ডার পাচ্ছিলাম না, তখন এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অক্সিজেন সিলিন্ডার পেয়ে আমাদের অনেক উপকার হয়েছে। এই অক্সিজেন সিলিন্ডারের অক্সিজেন নিয়ে তাঁকে আমরা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে পেরেছি। নয়তোবা পথিমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারতো।